পেকুয়ায় চাঁদার দাবীতে আওয়ামী লীগ নেতাকে মারধরের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের পেকুয়ায় চাঁদা না দেওয়ায় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের মুহুরীপাড়া স্টেশনের আইয়ুবের গ্যারেজের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার ব্যক্তির নাম সোলতান মুহাম্মদ রিপন চৌধুরী (৪২)। তিনি মগনামা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং মুহুরীপাড়া এলাকার জমিদার বাড়ির বাসিন্দা মৃত মাহবুবুর রহমানের ছেলে।
খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহত আওয়ামী লীগ নেতাকে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
সোলতান মুহাম্মদ রিপন চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, গত চার মাস ধরে একটি চক্র তার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। মগনামা ইউনিয়নের মগঘোনা এলাকার বাসিন্দা ইউনুসের নেতৃত্বে একটি চক্র তার কাছে চাঁদা দাবি করছে।
তিনি বলেন, তারা প্রকাশ্যে মুহুরীপাড়া স্টেশনের একটি দোকানে বসে চাঁদা দাবি করতেন। চাঁদা না দিলে মারধরসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়া হতো।
রিপন চৌধুরী বলেন, সোমবার সকালে মুহুরীপাড়া স্টেশন থেকে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছিলাম। এ সময় ইউনুস সামনে এসে আমাকে দাঁড়াতে বলে। এরপর ইউনুস টাকা দিতে বলে। কিসের টাকা জানতে চাইলে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে বলে জানায়। টাকা না দিলে এখনই তাকে মারধর করা হবে বলেও হুমকি দেয়।
তিনি আরও বলেন, এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে পাশের দোকান থেকে আরও ৪ থেকে ৫ জন লোক এসে তাকে ঘিরে ফেলে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগে ইউনুস, কলিম উল্লাহ, নেজাম উদ্দিন, হৃদয় ও মিজান গাছের বাটান দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। পরে স্টেশনের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে।
হামলাকারী সবাই ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মগঘোনা ও মুহুরীপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে দাবি করেন রিপন।
রিপন আরও বলেন, প্রায় দুই মাস আগে ইউনুসের নেতৃত্বে তার ২৭ শতক জমি জবরদখল করা হয়েছে। চাঁদা না দেওয়ায় তারা প্রথমে তার জমি দখল এবং সর্বশেষ তাকে মারধর করেছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মগনামা ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, রিপন বাজার নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এ সময় ইউনুসসহ ৪ থেকে ৫ জন লোক তাকে প্রকাশ্যে মারধর করে। আমরা গিয়ে থামানোর চেষ্টা করি। রিপনের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত চলছে। তবে ঘটানিটি খবুই দুঃখজনক ও নিন্দানীয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পেকুয়া থানার উপসহকারী পরিদর্শক (এএসআই) সুমন বলেন, পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় বাজারের লোকজন রিপনকে মারধরের কথা বলছে। আমরা মারধরের সত্যতা পেয়েছি। তবে এসময় হামলাকারীরা ছিলনা। রিপনকে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে যেতে বলেছি।
এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত ইউনুসের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হয়। সংযোগ বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতামত