পেকুয়া প্রতিদিন

‘ক্ষমতার চেয়ার পেয়েও শুধু নীতির জন্য তা দুরে ঠেলে দিতে সবাই পারেন না’

‘ক্ষমতার চেয়ার পেয়েও শুধু নীতির জন্য তা দুরে ঠেলে দিতে সবাই পারেন না’

বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন চিকিৎসক ও তরুণ রাজনীতিবিদ ডা. তাসনিম জারা। রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলের শপথ গ্রহণের পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি তার রাজনৈতিক জীবন, নীতি ও ব্যক্তিত্বের নানা দিক তুলে ধরেছেন।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে তাসনিম জারা লিখেছেন, ‘আজ থেকে তিনি আর তার দলের কেউ না, বাংলাদেশের।’ তার বিশ্বাস, মির্জা ফখরুলের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি পদটির সম্মান, মর্যাদা ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তাসনিম জারা জানান, ২০১৮ সালে প্রথমবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। ওই নির্বাচনের আগে তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুলের একটি ভিডিও বার্তার কথা স্মরণ করেন তিনি।

তাসনিম জারার ভাষ্য অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল তরুণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের অধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ঢাকার খিলগাঁওয়ের ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়েছিলেন।

তবে কেন্দ্রে গিয়ে তিনি নির্বাচনে অনিয়মের চিত্র দেখতে পান বলে দাবি করেন। তার ভাষায়, এত কিছুর পরও মির্জা ফখরুল নিজ আসনে জয় পেয়েছিলেন। কিন্তু ওই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ থাকায় তিনি সংসদে যাননি।

‘নীতির জন্য ক্ষমতার চেয়ার দূরে ঠেলে দিতে সবাই পারেন না’

তাসনিম জারা লিখেছেন, ক্ষমতার চেয়ার পাওয়ার পরও শুধু নীতির কারণে সেটি দূরে সরিয়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত সবাই নিতে পারেন না। তার মতে, এ জায়গায় মির্জা ফখরুল ব্যতিক্রম।

তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকার মির্জা ফখরুলকে রাজনৈতিকভাবে শেষ করে দিতে চেয়েছিল এবং তাকে একাধিকবার কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা প্রতিষ্ঠিত করা যায়নি বলে মন্তব্য করেন তাসনিম জারা।

তাসনিম জারার ভাষায়, মির্জা ফখরুল রাজনীতিতে অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে এসেছেন—এমনটা তার কখনো মনে হয়নি।

বই পড়া ও রাজনীতি নিয়ে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে আলাপ

নিজের রাজনৈতিক পথচলায় মির্জা ফখরুলের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাসনিম জারা। তিনি বলেন, রাজনীতির ভেতর ও বাইরের অনেক প্রবীণ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বললেও মির্জা ফখরুলের সঙ্গে যতবার কথা বলেছেন, তার রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।

তাসনিম জারা জানান, মির্জা ফখরুল অকপটে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন, কোন বই পড়া দরকার তার নাম বলেছেন এবং নিজের বইও তাকে দিয়েছেন।

তার মতে, রাজনীতির অঙ্গনে এমন মানুষ খুব বেশি নেই, যারা তরুণদের সঙ্গে বই ও পড়াশোনা নিয়ে আলোচনা করেন। একজন মানুষ রাজনীতিকে কীভাবে দেখেন, এ ধরনের ছোট ছোট বিষয়েও তার মানসিকতা ও রাজনৈতিক দর্শন প্রকাশ পায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

‘রাষ্ট্রপতি পদটির সম্মান ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে’

তাসনিম জারা বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সময়গুলোর একটি হলো ক্ষমতার পালাবদল। তার মতে, রাষ্ট্রপতি পদটি বিভিন্ন সময় বড় রাজনৈতিক সংকটের কেন্দ্রে ছিল। আবার এই পদই কখনো কখনো দেশকে স্থিতিশীলতা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রপতির পদে থাকা ব্যক্তির চরিত্র ও ভূমিকার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে।

মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাসনিম জারা লিখেছেন, ‘আজ থেকে তিনি আর তার দলের কেউ না, বাংলাদেশের।’ মির্জা ফখরুলকে যতটুকু জেনেছেন, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তার ওপর আশা রাখতে চান বলেও জানান তিনি।

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ মির্জা ফখরুলের

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকে শপথবাক্য পাঠ করান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

শপথের আগে জুমার নামাজ শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মির্জা ফখরুল।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

বিষয় : মির্জা ফখরুল তাসনিম জারা রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

পেকুয়া প্রতিদিন

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬


‘ক্ষমতার চেয়ার পেয়েও শুধু নীতির জন্য তা দুরে ঠেলে দিতে সবাই পারেন না’

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image
বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন চিকিৎসক ও তরুণ রাজনীতিবিদ ডা. তাসনিম জারা। রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলের শপথ গ্রহণের পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি তার রাজনৈতিক জীবন, নীতি ও ব্যক্তিত্বের নানা দিক তুলে ধরেছেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে তাসনিম জারা লিখেছেন, ‘আজ থেকে তিনি আর তার দলের কেউ না, বাংলাদেশের।’ তার বিশ্বাস, মির্জা ফখরুলের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি পদটির সম্মান, মর্যাদা ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তাসনিম জারা জানান, ২০১৮ সালে প্রথমবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। ওই নির্বাচনের আগে তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুলের একটি ভিডিও বার্তার কথা স্মরণ করেন তিনি। তাসনিম জারার ভাষ্য অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল তরুণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের অধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ঢাকার খিলগাঁওয়ের ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। তবে কেন্দ্রে গিয়ে তিনি নির্বাচনে অনিয়মের চিত্র দেখতে পান বলে দাবি করেন। তার ভাষায়, এত কিছুর পরও মির্জা ফখরুল নিজ আসনে জয় পেয়েছিলেন। কিন্তু ওই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ থাকায় তিনি সংসদে যাননি। ‘নীতির জন্য ক্ষমতার চেয়ার দূরে ঠেলে দিতে সবাই পারেন না’ তাসনিম জারা লিখেছেন, ক্ষমতার চেয়ার পাওয়ার পরও শুধু নীতির কারণে সেটি দূরে সরিয়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত সবাই নিতে পারেন না। তার মতে, এ জায়গায় মির্জা ফখরুল ব্যতিক্রম। তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকার মির্জা ফখরুলকে রাজনৈতিকভাবে শেষ করে দিতে চেয়েছিল এবং তাকে একাধিকবার কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা প্রতিষ্ঠিত করা যায়নি বলে মন্তব্য করেন তাসনিম জারা। তাসনিম জারার ভাষায়, মির্জা ফখরুল রাজনীতিতে অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে এসেছেন—এমনটা তার কখনো মনে হয়নি। বই পড়া ও রাজনীতি নিয়ে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে আলাপ নিজের রাজনৈতিক পথচলায় মির্জা ফখরুলের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাসনিম জারা। তিনি বলেন, রাজনীতির ভেতর ও বাইরের অনেক প্রবীণ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বললেও মির্জা ফখরুলের সঙ্গে যতবার কথা বলেছেন, তার রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। তাসনিম জারা জানান, মির্জা ফখরুল অকপটে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন, কোন বই পড়া দরকার তার নাম বলেছেন এবং নিজের বইও তাকে দিয়েছেন। তার মতে, রাজনীতির অঙ্গনে এমন মানুষ খুব বেশি নেই, যারা তরুণদের সঙ্গে বই ও পড়াশোনা নিয়ে আলোচনা করেন। একজন মানুষ রাজনীতিকে কীভাবে দেখেন, এ ধরনের ছোট ছোট বিষয়েও তার মানসিকতা ও রাজনৈতিক দর্শন প্রকাশ পায় বলে মন্তব্য করেন তিনি। ‘রাষ্ট্রপতি পদটির সম্মান ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে’ তাসনিম জারা বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সময়গুলোর একটি হলো ক্ষমতার পালাবদল। তার মতে, রাষ্ট্রপতি পদটি বিভিন্ন সময় বড় রাজনৈতিক সংকটের কেন্দ্রে ছিল। আবার এই পদই কখনো কখনো দেশকে স্থিতিশীলতা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রপতির পদে থাকা ব্যক্তির চরিত্র ও ভূমিকার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাসনিম জারা লিখেছেন, ‘আজ থেকে তিনি আর তার দলের কেউ না, বাংলাদেশের।’ মির্জা ফখরুলকে যতটুকু জেনেছেন, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তার ওপর আশা রাখতে চান বলেও জানান তিনি। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ মির্জা ফখরুলের এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকে শপথবাক্য পাঠ করান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। শপথের আগে জুমার নামাজ শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মির্জা ফখরুল। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

পেকুয়া প্রতিদিন

চেয়ারম্যান: মোহাম্মদ কাইছার
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রেজাউল করিম

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পেকুয়া প্রতিদিন টিম
‘ক্ষমতার চেয়ার পেয়েও শুধু নীতির জন্য তা দুরে ঠেলে দিতে সবাই পারেন না’
0:00 0:00
1.0x